৩০ রোজার ফজিলত দলিল সহ
রমজানের ৩০ রোজার ফজিলত সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে প্রচুর ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
এই আর্টিকেলে রমজানের ৩০ রোজার ফজিলত দলিল সহ বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
৩০ রোজার ফজিলত দলিল সহ?
নিচে কুরআন ও হাদিসের ভিত্তিতে রমজানের ৩০ রোজার ফজিলত তুলে ধরা হলোঃ
১. রমজান মাসের গুরুত্ব ও রোজার ফজিলত
কুরআনের দলিলঃ
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “রমজান মাস, যে মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য পথনির্দেশ ও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও ফয়সালারূপে। অতএব, তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে, সে যেন তাতে রোযা রাখে।” (সূরা আল-বাকারা: ১৮৫)
২. প্রতিটি নেক আমলের বহু গুণ সওয়াব
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ “মানুষের প্রতিটি সৎকর্মের প্রতিদান ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। তবে আল্লাহ তাআলা বলেন: রোজা আমার জন্য, আর আমিই এর প্রতিদান দেবো।” (সহিহ বুখারি: ১৯০৪, সহিহ মুসলিম: ১১৫১)
৩. জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়
রাসুল (সা.) বলেছেনঃ “যখন রমজান মাস আসে, তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, এবং শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।” (সহিহ বুখারি: ১৮৯৯, সহিহ মুসলিম: ১০৭৯)
৪. রোজা গুনাহ মোচনের মাধ্যম
রাসুল (সা.) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।” (সহিহ বুখারিঃ ২০১৪, সহিহ মুসলিম: ৭৬০)
৫. রোজাদারের জন্য জান্নাতে বিশেষ দরজা (রাইয়ান)
রাসুল (সা.) বলেছেনঃ “জান্নাতে একটি দরজা আছে, যার নাম রাইয়ান। কিয়ামতের দিন রোজাদাররা এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে, তাদের ছাড়া অন্য কেউ এতে প্রবেশ করতে পারবে না।” (সহিহ বুখারি: ১৮৯৬, সহিহ মুসলিম: ১১৫২)
৬. দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ সুযোগ
রাসুল (সা.) বলেছেনঃ “তিন ব্যক্তির দোয়া কখনো প্রত্যাখ্যাত হয় না: (১) ন্যায়পরায়ণ শাসকের, (২) রোজাদারের ইফতারের সময়, (৩) মজলুমের (অত্যাচারিত ব্যক্তির)।” (তিরমিজি: ৩৫৯৮, ইবনে মাজাহ: ১৭৫২)
৭. রমজানের শেষ ১০ রাতের বিশেষ ফজিলত (লাইলাতুল কদর)
আল্লাহ বলেনঃ “লাইলাতুল কদর হলো হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।” (সূরা আল-কদর: ৩)
রাসুল (সা.) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর উপলব্ধি করে ইবাদত করবে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।” (সহিহ বুখারিঃ ২০১৪, সহিহ মুসলিম: ৭৬০)
৮. রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ
রাসুল (সা.) বলেছেনঃ “রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছেঃ একটি হলো ইফতারের সময়, আরেকটি হলো যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে।” (সহিহ বুখারিঃ ১৯০৪, সহিহ মুসলিম: ১১৫১)।
শেষ কথা
রমজানের ৩০টি রোজা রাখা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ লাভের মাধ্যম। এটি কেবল গুনাহ মোচনই নয়, জান্নাতের পথে এগিয়ে যাওয়ারও একটি সুযোগ। আল্লাহ আমাদের সকলকে রমজানের পূর্ণ ফজিলত অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন!

