ধর্ম

যাকাত কাকে বলে | যাকাত কত প্রকার ও কি কি

যাকাত হল ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি, যা নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ অর্জনকারী মুসলমানদের জন্য বাধ্যতামূলক দান।যাকাতএটি আর্থিক ইবাদত, যার মাধ্যমে ধনী মুসলমানরা তাদের সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ গরিব ও দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ করেন।

যাকাত কাকে বলে?

আরবি শব্দ “যাকাত” এর অর্থ হলো পবিত্রতা, বৃদ্ধি ও বরকত। ইসলামী পরিভাষায়, একজন মুসলমান তার নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের উপর প্রতি বছর সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার সমমূল্য সম্পদ থাকলে তার উপর ২.৫% হারে যাকাত ফরজ হয়।

যাকাত দেওয়ার উদ্দেশ্য?

  • সম্পদের পবিত্রতা অর্জন
  • ধনী ও গরিবের মধ্যে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা
  • সমাজে সহমর্মিতা ও দানশীলতার প্রসার

যাকাত কত প্রকার ও কি কি?

যাকাত মূলত দুই প্রকারঃ

১. ফরজ যাকাত (বাধ্যতামূলক)

এটি প্রত্যেক মুসলমানের জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে দেওয়া ফরজ। ফরজ যাকাত আবার বিভিন্ন ভাগে বিভক্তঃ

(ক) সম্পদের যাকাত

যেসব সম্পদের উপর যাকাত ফরজ হয়, সেগুলো হলোঃ

১. নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও রূপা

নির্দিষ্ট পরিমাণ (নিসাব) থাকলে ২.৫% হারে যাকাত দিতে হয়।

২. ব্যবসায়িক সম্পদ

ব্যবসার জন্য সংরক্ষিত পণ্য বা মূলধনের উপর যাকাত দিতে হয়।

৩. পশুসম্পদ

উট, গরু, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদির নির্দিষ্ট সংখ্যার উপর যাকাত ফরজ।

৪. কৃষিজ ফসল ও ফলমূল

সেচের মাধ্যমে উৎপাদিত ফসলে ৫% ও প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত ফসলে ১০% যাকাত দিতে হয়।

৫. খনিজ ও মূল্যবান ধাতু

মাটির নিচ থেকে আহরিত সম্পদের উপর ২০% যাকাত দিতে হয়।

(খ) ফিতরার যাকাত (সদকাতুল ফিতর)

রমজানের রোজা পালনের পর ঈদুল ফিতরের আগে দেওয়া একটি বাধ্যতামূলক দান, যা প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমানকে দিতে হয়।

২. নফল যাকাত (স্বেচ্ছাধীন)

যারা ফরজ যাকাতের অতিরিক্ত দান করেন, সেটিকে নফল যাকাত বলা হয়। এটি ফরজ নয়, তবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এটি উৎসাহিত করা হয়েছে। নফল যাকাতের কিছু উদাহরণঃ

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

১. সদকা

সাধারণ দান, খয়রাত

২. ওয়াকফ

কোনো সম্পদ দান করে স্থায়ী কল্যাণমূলক কাজে লাগানো

৩. লিল্লাহ দান

আল্লাহর জন্য দান, যা মসজিদ, মাদ্রাসা, দরিদ্রদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়

সংক্ষেপেঃ

ফরজ যাকাত নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী দেওয়া বাধ্যতামূলক, আর নফল যাকাত অতিরিক্ত সওয়াবের জন্য দেওয়া হয়।

যাকাতের গুরুত্ব ও উপকারিতা?

  • দরিদ্রদের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়।
  • সমাজে সম্পদের বৈষম্য হ্রাস পায়।
  • দাতার অন্তর শুদ্ধ হয় এবং লোভ লালসা কমে।
  • ইসলামী অর্থনীতি শক্তিশালী হয়।
  • এটি সামাজিক সংহতি ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button