ধর্ম

রোজার নিয়ত কখন করতে হয়

রোজা রাখার জন্য নিয়ত করা অপরিহার্য। নিয়ত মানে হলো রোজা রাখার দৃঢ় সংকল্প করা। নিয়ত না করলে রোজা সহিহ হয় না।রোজার নিয়ত কখন করতে হয়তবে নিয়তের জন্য মুখে বলা জরুরি নয়, মনে মনে সংকল্প করলেই যথেষ্ট। এই আর্টিকেলে রোজার নিয়ত কখন করতে হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

রোজার নিয়ত কখন করতে হয়?

রোজার নিয়তের সময় ও বিধান?

১. ফরজ ওয়াজিব রোজার নিয়ত

ফরজ ও ওয়াজিব রোজার জন্য সুবহে সাদিকের (ভোরের আলো ফোটার) আগে নিয়ত করা জরুরি। কারণ, নবী (সা.) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি রাতের আগেই রোজার নিয়ত করবে না, তার রোজা নেই।” (আবু দাউদ: ২৪৫৪)

ফরজ ও ওয়াজিব রোজার মধ্যে পড়েঃ

  • রমজানের রোজা
  • কাজা রোজা (যে রোজা ভঙ্গ হয়েছে তা পরবর্তীতে রাখা)
  • কাফফারার রোজা (কোনো ভুলের কারণে প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ রাখা রোজা)
  • মানতের রোজা (কোনো ইচ্ছা পূরণ হলে রোজা রাখার মানত করলে তা পালন করা)

→ নিয়তের সময়

  • রাতের যেকোনো সময় থেকে সুবহে সাদিকের আগে পর্যন্ত নিয়ত করা যাবে।
  • সুবহে সাদিকের (ভোর) পর নিয়ত করলে রোজা হবে না।

২. নফল রোজার নিয়ত

নফল রোজার জন্য সুবহে সাদিকের আগেই নিয়ত করা বাধ্যতামূলক নয়। যদি কেউ সকাল বেলায় কিছু খায়নি এবং গুনাহের কোনো কাজ করেনি, তাহলে অর্ধবেলা পর্যন্ত (যোহরের আগ পর্যন্ত) নিয়ত করলেও রোজা সহিহ হবে।

→ নিয়তের সময়

  • সকাল থেকে যোহরের আগ পর্যন্ত নিয়ত করা যাবে (যদি কিছু খাওয়া-দাওয়া না করে থাকেন)।
  • তবে সূর্যোদয়ের পর খাওয়া-দাওয়া করলে নফল রোজার নিয়ত করা যাবে না।

রোজার নিয়তের পদ্ধতি?

১. নিয়তের মূলকথা

নিয়তের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বাক্য বলা জরুরি নয়, বরং মনে মনে সংকল্প করাই যথেষ্ট। তবে মুখে বলা সুন্নত এবং ইচ্ছা করলে বলা যেতে পারেঃ

রমজানের রোজার নিয়ত?

نَوَيْتُ صَوْمَ غَدٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ لِلَّهِ تَعَالَى

উচ্চারণঃ “নাওয়াইতু সাওমা গাদিন মিন শাহরি রামাদানা লিল্লাহি তা’আলা”

অর্থঃ “আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আগামীকাল রমজানের রোজা রাখার নিয়ত করলাম।”

নফল রোজার নিয়ত?

نَوَيْتُ صَوْمَ هَذَا اليَوْمِ لِلَّهِ تَعَالَى

উচ্চারণঃ “নাওয়াইতু সাওমা হাজা আল-ইয়াওমি লিল্লাহি তা’আলা”

অর্থঃ “আমি আজকের জন্য নফল রোজার নিয়ত করলাম আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।”

শেষ কথা

  • ফরজ ও কাজা রোজার নিয়ত সুবহে সাদিকের আগে করতে হবে।
  • নফল রোজার নিয়ত যোহরের আগ পর্যন্ত করা যাবে, যদি কিছু না খেয়ে থাকেন।
  • মুখে নিয়ত বলা ভালো, তবে মনে মনে সংকল্প করাই যথেষ্ট।
  • নিয়তের জন্য নির্দিষ্ট বাক্য আবশ্যক নয়।

এই নিয়মগুলো মেনে চললে রোজা সহিহ হবে, ইনশাআল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button